কুরআনের আলোকে জিহাদের প্রকৃত ধারণা

বর্তমান বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কিত সবচেয়ে বেশি অপব্যবহৃত বা বিকৃত ধারণাগুলোর একটি হলো ‘জিহাদ’। দুঃখজনকভাবে, কুরআনে বর্ণিত জিহাদের প্রকৃত সংজ্ঞার জায়গাটি দখল করে নিয়েছে একটি বানোয়াট ও আগ্রাসনমূলক সংজ্ঞা। জিহাদের এই ভুল সংস্করণটি, যা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামের নামে তাদের সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড ছড়াতে ব্যবহার করছে, তা কুরআনের বহু আয়াতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্বব্যাপী ঘটে চলা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো নির্বিচারে নিরীহ মানুষ হত্যা। আর এগুলো করা হচ্ছে জিহাদের নামে। দিনশেষে, সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী এই অপরাধমূলক কাজগুলো বিশ্বজুড়ে ইসলামের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

যেকোনো ধর্মীয় বিষয়ের মতোই এর সঠিক সংজ্ঞাও মানুষের ব্যাখ্যা বা শিক্ষা থেকে নয়, বরং সরাসরি ধর্মগ্রন্থ থেকেই গ্রহণ করতে হবে। কুরআনের আলোকে জিহাদের ধারণাটি পুরোপুরি বুঝতে হলে নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া জরুরি:

১. ‘জিহাদ’ শব্দের কুরআনিক সংজ্ঞা কী?

২. ‘আল্লাহর পথ’ (The cause of God) বলতে কী বোঝায়?

৩. যেসব ব্রেইনওয়াশড তরুণ ‘আত্মঘাতী বোমা হামলায়’ নিজেদেরকে উড়িয়ে দিচ্ছে, তারা কি সত্যিই বেহেশতে যাচ্ছে, যেমনটা তাদেরকে বিশ্বাস করানো হয়েছে?

৪. ‘পবিত্র যুদ্ধ’ বা ‘Holy War’ ধারণার কোনো ভিত্তি বা অনুমোদন কি কুরআনে আছে?

আক্ষরিক অর্থে ‘জিহাদ’ মানে হলো— কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য চেষ্টা বা সংগ্রাম করা। অন্যদিকে, কুরআনের পরিভাষায় এর অর্থ হলো— আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করা বা প্রচেষ্টা চালানো। কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াতে এই সংজ্ঞার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন:

  • “প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, এরপর আর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম (জাহাদু) করেছে। তারাই হলো সত্যনিষ্ঠ।” (৪৯:১৫)
  • “যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম (জাহাদু) করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা সবচেয়ে বড়। আর তারাই হলো সফলকাম।” (৯:২০)
  • “কিন্তু রাসূল এবং যারা তার সাথে ঈমান এনেছে, তারা নিজেদের জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম (জাহাদু) করেছে। তাদের জন্যই রয়েছে সব কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম।” (৯:৮৮)

নোট: এখানে ব্যবহৃত ‘জাহাদু’ শব্দটি ‘জিহাদ’ শব্দের অতীতকালীন ক্রিয়ারূপ।

জিহাদ মানে যে ‘আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে সংগ্রাম করা’— এটা নিশ্চিত হওয়ার পর জানা প্রয়োজন যে, কুরআনের পরিভাষায় ‘আল্লাহর পথ’ কথাটির অর্থ কী।

আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার অর্থ হলো— আল্লাহর দেওয়া সমস্ত আদেশ ও নিষেধ মেনে চলার জন্য সংগ্রাম করা। জিহাদ হলো আল্লাহর দেখানো পথ এবং তাঁর বিধান প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা।

কুরআনে বর্ণিত জিহাদ কি ইসলামের নামে সহিংসতা বা নিরীহ মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে?

বেশ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াতের দিকে লক্ষ করলেই এ বিষয়টির সমাধান পাওয়া যায়:

১. আল্লাহ কখনো পাপ কাজের নির্দেশ দেন না:

প্রথমেই কুরআনের একটি মূল নীতির ব্যাপারে সর্বদা সচেতন থাকা জরুরি, যেখানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ কখনোই কোনো পাপ বা অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না:

  • “বলো, ‘আল্লাহ কখনোই অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর নামে এমন কিছু বলছো, যে সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?’” (৭:২৮)

২. নিরীহ প্রাণ হত্যা মহাপাপ:

কুরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, যেকোনো নিরীহ প্রাণ হত্যা করা একটি চরম পাপ:

  • “আর ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তোমরা সেই প্রাণকে হত্যা করো না, যা আল্লাহ হারাম করেছেন।” (৬:১৫১ এবং ১৭:৩৩)

যেকোনো নিরীহ প্রাণ হত্যার বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা পূর্ববর্তী সকল ধর্মগ্রন্থেও ছিল:

  • “এ কারণেই আমি বনী ইসরাইলের ওপর এই বিধান দিয়েছিলাম যে, কেউ যদি অন্য কাউকে হত্যার বিনিময় বা পৃথিবীতে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করার কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল।” (৫:৩২)

৩. কেবল আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধ অনুমোদিত:

আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া আল্লাহ যুদ্ধ করার অনুমতি দেন না:

  • “তারা যদি তোমাদের এড়িয়ে চলে, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব দেয়, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করার) কোনো পথ রাখেননি।” (৪:৯০)
  • “আর তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৮:৬১)
  • “সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।” (৫:৮৭)

৪. ধর্মে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই:

ধর্মের ব্যাপারে জোর-জবরদস্তি না করার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন:

  • “ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।” (২:২৫৬)
  • “তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আর আমার ধর্ম আমার জন্য।” (১০৯:৬)
  • “তোমার রব যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীর সবাই ঈমান আনতো। তবে কি তুমি মানুষকে মুমিন হওয়ার জন্য বাধ্য করবে?” (১০:৯৯)

উপরের আয়াতগুলোর নির্দেশ একদম স্পষ্ট। বিশ্বাস এবং ধর্ম কারো ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং এটি প্রতিটি মানুষের নিজস্ব স্বেচ্ছাধীন সিদ্ধান্ত। এই সত্যটি নিচের আয়াতগুলোতে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে:

  • “বলো, ‘সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে।’ সুতরাং যার ইচ্ছা সে বিশ্বাস করুক, আর যার ইচ্ছা সে অবিশ্বাস করুক।” (১৮:২৯)
  • “অতএব তুমি উপদেশ দিতে থাকো, তুমি তো কেবল একজন উপদেশদাতা। তুমি তাদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রক (জোর খাটানোর অধিকারী) নও।” (৮৮:২১-২২)

৫. ক্ষমা ও সহনশীলতার শিক্ষা:

যারা ইসলাম অনুসরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের প্রতি ক্ষমা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয় কুরআন:

  • “যারা ঈমান এনেছে তাদের বলো, তারা যেন তাদের ক্ষমা করে দেয়, যারা আল্লাহর দিনগুলোর (শাস্তির দিনগুলোর) আশা বা ভয় রাখে না। যাতে তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দিতে পারেন।” (৪৫:১৪)

কুরআন সকল মানুষের জন্য নিরঙ্কুশ ধর্মীয় স্বাধীনতার অনুমোদন দিয়েছে। অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে হবে। কুরআন মুসলিমদের নির্দেশ দেয় এসব মানুষের সাথে সদয় ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে:

  • “ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের সাথে সদয় ও ন্যায়বিচারপূর্ণ আচরণ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।” (৬০:৮)

উপরের আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করে যে, কুরআন সব ধরনের সহিংসতা, বেআইনি হত্যা এবং অন্যদের জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে বিশ্বজুড়ে নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনাগুলো ওপরে উল্লেখিত সকল আয়াতের সরাসরি লঙ্ঘন।

আত্মহত্যা হলো অবিশ্বাস এবং ঈমান হারানোর একটি রূপ। কুরআনে আল্লাহ মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন কখনো নিরাশ বা হতাশ না হতে; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যেতে:

  • “অবিশ্বাসীরা ছাড়া আর কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।” (১২:৮৭)

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দেওয়া অনেক তরুণের মগজ ধোলাই করে এমন বিশ্বাস তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে, আত্মঘাতী বোমায় নিজেদের উড়িয়ে দিলে তারা শহীদ হিসেবে মারা যাবে এবং সরাসরি জান্নাতে চলে যাবে!

আসলে যারা ইসলাম বা আল্লাহর নামে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে এবং নিজেদের শহীদ বলে মনে করে, তাদের দ্বিতীয়বার ভাবা উচিত। নিচে বর্ণিত কুরআনের আয়াতগুলো অনুযায়ী তাদের এই কাজকে আল্লাহ স্পষ্টভাবে নিন্দা করেছেন।

  • “আর তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। আর সৎকর্ম করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।” (২:১৯৫)
  • “হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। যে কেউ সীমালঙ্ঘন ও অন্যায়ভাবে তা করবে, আমি তাকে আগুনে পুড়াবো। আর এটি আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।” (৪:২৯-৩০)

উপর্যুক্ত কুরআনের আয়াতগুলোর আলোকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে:

  • আল্লাহর দৃষ্টিতে কোনো নিরীহ প্রাণ হত্যা করা মহাপাপ (৬:১৫১, ১৭:৩৩)।
  • যেকোনো ধরনের আত্মহত্যাই আল্লাহর কাছে কঠোরভাবে নিন্দনীয় (৪:৩০)।
  • যারা আত্মহত্যা করে, কুরআন তাদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয় না, বরং কঠোর শাস্তির সতর্কবাণী দেয় (৪:৩০)।

বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জিহাদকে একটি ‘পবিত্র যুদ্ধ’ হিসেবে চিত্রিত করে থাকে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোও দুর্ভাগ্যজনকভাবে জিহাদকে সেভাবেই প্রচার করছে।

কুরআনের কোথাও ‘পবিত্র যুদ্ধ’ (Holy War) বলে কোনো শব্দের অস্তিত্ব নেই। কুরআন যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তিকে উৎসাহিত করে। ‘ইসলাম’ শব্দটি এসেছে ‘সালাম’ শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো শান্তি।

যুদ্ধ কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই অনুমোদিত। এর কারণ হলো, কুরআন যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ও নিপীড়নের বিরোধিতা করার নির্দেশ দেয়। আর যখনই যুদ্ধ এড়ানোর কোনো সম্ভাবনা থাকে, তখনই সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

  • “তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং তাদের ছাড়া আরও যাদের তোমরা জানো না কিন্তু আল্লাহ জানেন, তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে পারো। আল্লাহর পথে তোমরা যা-ই ব্যয় করো না কেন, তার পুরোপুরি প্রতিফল তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না। আর তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৮:৬০-৬১)
  • “যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো; কারণ তারা অত্যাচারিত। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে পুরোপুরি সক্ষম। তাদের কেবল এই অপরাধে অন্যায়ভাবে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে যে, তারা বলতো, ‘আমাদের রব আল্লাহ।’ আল্লাহ যদি একদল মানুষের দ্বারা অন্য দলকে প্রতিহত না করতেন, তবে মঠ, গির্জা, সিনাগগ এবং মসজিদসমূহ—যেখানে আল্লাহর নাম বেশি স্মরণ করা হয়—তা ধ্বংস হয়ে যেত। যারা আল্লাহকে সাহায্য করে, আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী।” (২২:৩৯-৪০)

দেখা যাচ্ছে যে, কুরআনে যুদ্ধের যে যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে তা কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনো অত্যাচারীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মানে হলো নিপীড়ন বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা, আর তাই এটি হলো ন্যায়ের পক্ষে লড়াই। সুতরাং, কেবল এই অর্থেই এটি ‘আল্লাহর পথে’ সংগ্রাম।

  • “আর যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তবে সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।” (২:১৯০)

‘আল্লাহর পথে’ নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার বিষয়টি সূরা নিসার ৭৫ নম্বর আয়াতেরও মূল বিষয়:

  • “সুতরাং যারা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন বিক্রি করে দেয়, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিহত হয় অথবা বিজয়ী হয়, আমি তাকে মহাপুরস্কার দান করব। আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেইসব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের রক্ষার্থে যুদ্ধ করছো না, যারা ফরিয়াদ করছে, ‘হে আমাদের রব! এই জনপদ—যার অধিবাসীরা অত্যাচারী—তা থেকে আমাদের বের করুন, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করুন।’” (৪:৭৪-৭৫)

পরিশেষে বলা যায় এটি খুব স্পষ্ট যে, কিছু লোক নিজেদের গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ‘জিহাদ’ শব্দটিকে ভুলভাবে ব্যবহার করেছে। কুরআনে যুদ্ধের সাথে ‘পবিত্র’ (Holy) শব্দটি কখনোই ব্যবহৃত হয়নি।

তবে এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে যখন কুরআন যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছে, এবং আমরা দেখেছি যে এটি কেবল আত্মরক্ষার উপায় হিসেবেই অনুমোদিত। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও একে ‘পবিত্র যুদ্ধ’ বা ‘Holy War’ নাম দেওয়া হয়নি। ইসলাম আবর্তিত হয় কেবল শান্তির ধারণাকে কেন্দ্র করে:

  • “আর তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৮:৬১)